মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৩ August ২০১৮

আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালন

২০১৭ সালে “আসুন, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হই” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস ৯ ডিসেম্বর পালনের লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেয়। জাতিসংঘ ২০০৩ সালে ৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। দুর্নীতি দমন কমিশন ২০০৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন শুরু করে। দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতি বছর দিবসটি পালন করলেও দেশে সরকারিভাবে দিবসটি পালিত হতো না। এ প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি দমন কমিশন ০৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী  দিবস পালনের অনুরোধ জানিয়ে ২০১৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে পত্র প্রেরণ করে। তৎপ্রেক্ষিতে সরকার ১৮ জুলাই, ২০১৭ তারিখে ০৯ ডিসেম্বর তারিখকে “আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস” ঘোষণা করে। পাশাপাশি ০৯ ডিসেম্বরকে “আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস”হিসেবে উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালন সংক্রান্ত পরিপত্রের ‘খ’ শ্রেণীভূক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভূক্তকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কমিশন মনে করে, দিবসটি সরকারিভাবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের দৃঢ় অবস্থান আরও সুস্পষ্ট ও সুদৃঢ় হয়েছে। ২০১৭ সালেই প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালিত হয়েছে। ০৯ ডিসেম্বর নয়টায় দুর্নীতি দমন কমিশনের সামনের সড়কে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে দিবসটির উদ্বোধন ঘোষণাআ করেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ, এসময় দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলামসহ কমিশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ তার সঙ্গে ছিলেন। উদ্বোধনের পরপরই কমিশনের মিডিয়া সেন্টারে রক্ষিত রেজিস্টারে নিজ স্বাক্ষরের মাধ্যমে দুর্নীতি বিরোধী গণস্বাক্ষর কর্মসূচিরও উদ্বোধন করেন দুদক চেয়ারম্যান। এবারই প্রথম বারের মতো দুর্নীতিবিরোধী গণস্বাক্ষর কর্মসূচি গ্রহণ করেছে দুদক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘দুর্নীতি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, এটি একটি বৈশিক সমস্যা। তাই সারা পৃথিবীতে দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালিত হচ্ছে’। তিনি বলেন, এ বছর সরকার আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস সরকারিভাবে পালন করছে, যা দেশের দুর্নীতিবিরোধী সংগ্রামকে আরো বেগবান করবে। উদ্বোধনের পর দুদক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে কমিশনের প্রধান কার্যালয় ও ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ, দুদকের প্যানেল আইনজীবী, ঢাকা মহানগর দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য, গার্ল গাইডস, বয়েজ স্কাউট, আনসার, বিএনসিসি, ঢাকা জেলা প্রশাসন, শহর সমাজ সেবা কার্যালয়, অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম, গণস্বাক্ষরতা অভিযান, গ্রামীনশিক্ষা, ব্যুরো বাংলাদেশ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, অপরাজেয় এর সদস্যগণসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দুর্নীতিবিরোধী মানববন্ধন করেন। পরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়, সভায় প্রধান অতিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। এছাড়া শিশুপার্ক, গুলিস্তান, ফার্মগেটসহ জনসমাগম হয় এমন স্থানে দুর্নীতিবিরোধী তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। কেন্ত্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের প্রতিটি মহানগর, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে মানববন্ধন, আলোচনা সভা, তথ্য চিত্র প্রদর্শন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

 

 

 


Share with :

Facebook Facebook