মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৩১st জুলাই ২০১৮

অনুসন্ধান ও তদন্ত

দুর্নীতি দমন কমিশন তার সামগ্রিক কার্যক্রম ০৬(ছয়)টি অনুবিভাগের মাধ্যমে পরিচালনা করে। অনুসন্ধান ও তদন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুবিভাগ। এই অনুবিভাগের অধীনে অনুসন্ধান ও তদন্ত-১ এবং অনুসন্ধান ও তদন্ত-২ নামে দুটি শাখা রয়েছে। উক্ত ০২ (দুই) টি শাখার মাধ্যমে অনুবিভাগের আওতাধীন ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল মোট = ০৬ টি বিভাগীয় কার্যালয় ও ২২ (বাইশ) টি সমন্বিত জেলা কার্যালয় এর কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।দুর্নীতির অপরাধসমূহের বিচার কার্য প্রধানত নির্ভর করে অনুসন্ধানের উপর। দুর্নীতি  দমন কমিশন আইন ২০০৪ অনুসন্ধান সম্পর্কে দুদককে বিশেষ ক্ষমতা অর্পণ করেছে (ধারা ১৯ ও ২০)। সেজন্য, অনুসন্ধান সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করার জন্য দুদকের এই অনুবিভাগটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

 

সংশ্লিষ্ট মহাপরিচালকের নেতৃত্বে এই অনুবিভাগ টি নিম্নোক্ত বিষয়ের উপর তদন্ত ও অনুসন্ধানের দায়িত্বপ্রাপ্ত:

  •     ভূমি, ভূমি রাজস্ব ও বন্ধক;
  •     ঘুষ (অর্থ, সম্পদ ও পরিষেবা);
  •     স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অবৈধ উপায়ে অর্জন;
  •     নির্মাণ কাজ ও যোগাযোগ খাতের দুর্নীতি ;
  •     উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বেসরকারি সংস্থার দুর্নীতি;
  •     শুল্ক ও রাজস্ব, ব্যবসায়ী/ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহ;
  •     সরকারি ক্রয়/বিক্রয়, লাইসেন্স ইস্যু করা;
  •     শপথ ভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহার শীর্ষক অপরাধ; এবং
  •     অন্যান্য, যেমন, দুদক আইন, ২০০৪-এর তফসিলে উল্লিখিত অপরাধসমূহ।

 

অভিযোগ প্রাপ্তির পর কমিশন নিম্নের বিষয়গুলো বিবেচনা নিয়ে থাকে:

  • অভিযোগটি কমিশনের তফসিলভূক্ত অপরাধ কি-না;
  • অভিযোগটি সুনির্দিষ্ট ও তথ্যভিত্তিক কি-না;
  • অপরাধ সংঘটনের সময়কাল উল্লেখ করা হয়েছে কি-না;
  • অভিযুক্ত ব্যক্তির অভিযোগের সাথে সংশ্লিষ্টতা;
  • অভিযুক্ত ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গের পূর্নাংগ ঠিকানা উল্লেখ আছে কি-না;
  • অভিযোগের গুরুত্ব ও মাত্রা;
  • অভিযোগের আর্থিক সংশ্লেষের পরিমাণ;
  • অভিযোগকারীর নাম ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকনা উল্লেখ আছে কি-না;
  • অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইন পর্যালোচনা করে দেখা হয় যাতে অভিযোগটি আদালতে প্রমাণযোগ্য কি-না;

 

অভিযোগ এবং এর যাচাই-বাছাই পরবর্তী কার্যক্রমের পরিসংখ্যান

দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭ অনুযায়ী কমিশনে দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের ও যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ বিধি অনুসরণ করে কমিশণে অভিযোগ গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত বিষয়ে দায়িত্ব পালনের নিমিত্ত 'অভিযোগ যাচাই-বাছাই সেল' রয়েছে। এই সেল বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার ও বিভিন্ন উৎস থেকে কমিশনে আসা অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে থাকে। ২০১৭ সালে কমিশন অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গ্রেডিং পদ্ধতি প্রবর্তন করেছে। সুতরাং অভিযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে দুদকের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর প্রভাবিত হওয়রার সুযোগ নেই।

২০১৭ সালে সমাজের বিভিন্ন শেণীর সম্মানিত নাগরিক, গণমাধ্যম এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১৭,৯৫৩ টি অভিযোগ আসে, যার মধ্যে ৯৩৭টি অনুসন্ধানের জন্যে গৃহীত হয় এবং ৩৭৭টি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রেরণ করা হয়।.২০১৭ সালে প্রাপ্ত ভিযোগ এবং এর যাচাই-বাছাই পরবর্তী কার্যক্রমের পরিসংখ্যান এবং ২০১৮, ২০১৫, ২০১৬, ২০১৭ সালে প্রাপ্ত অভিযোগের তুলনামূলক পরিসংখ্যান নিম্নে প্রদান করা হলো। 

 

২০১৭ সালে প্রাপ্ত অভিযোগ এবং এর যাচাই-বাছাই পরবর্তী কার্যক্রমের পরিসংখ্যান নিম্নে উপস্থাপন করা হলো:

প্রাপ্ত অভিযোগের উৎস

মোট প্রাপ্ত অভিযোগের সংখ্যা

অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত অভিযোগের সংখ্যা

নথিভূক্ত অভিযোগের সংখ্যা

প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রেরণ

জনসাধারণ

১৫,৬৮১

১৭,৯৫৩

৯৩৭

১৬,৬৩৯

৩৭৭

সরকারী দপ্তর/সংস্থা

১০২

পত্রিকা/টিভি প্রতিবেদন

১৯০

কমিশনের বিভাগীয় কার্যালয়সমূহ

১,৭৩৯

 

২০১৪, ২০১৫, ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে কমিশনে প্রাপ্ত অভিযোগের তুলনামূলক চিত্র

সাল

প্রপ্ত অভিযোগের সংখ্যা

অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরণ

২০১৪

১২,৫০০

১,৬৮৯

২৩৭

২০১৫

১০,৪১৫

১,২৪০

১৬৫

২০১৬

১২,৯৯০

১,০০৭

৫৮৮

২০১৭

১৭,৯৫৩

৯৩৭

৩৭৭

 

বিগত চার বছরের অভিযোগ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০১৭ সালে কমিশনে সর্বাধিক সংখ্যক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ২০১৬ সাল অপেক্ষা ২০১৭ সালে ৪,৯৯৩টি অভিযোগ অর্থা প্রায় ৩৮% অভিযোগ বেশি এসেছে। এ বৃদ্ধি কমিশনের প্রতি জন-আস্থা বৃদ্ধির সূচক হিসেবে মনে করা হয়।

 

২০১৪, ২০১৫, ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে কমিশনে প্রাপ্ত অভিযোগের পরিসংখ্যান

 

পূর্ববর্তী বছরসমূহের অনিষ্পন্ন অনুসন্ধানসহ ২০১৭ সালে কমিশন কর্তৃক গৃহীত অনুসন্ধান কার্যক্রমের পরিসংখ্যান

কমিশন পূর্ববর্তী বছরসমূহের বিপুল সংখ্যক অনিষ্পন্ন অনুসন্ধান পরিচালনায় বিশেষ কার্যক্রম হাতে নেয়। নির্ধারিত সময়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য কর্মকর্তাদের কর্মকৌশল অনুসারে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি পূর্ববর্তী বছরসমূহের অনিষ্পন্ন অনুসন্ধানসহ ২০১৭ সালে মোট অনুসন্ধানের সংখ্যা ছিলো ৩,৭৫৯ টি। কমিষন ২০১৭ সালে ১,৪৪৫টি অনুসন্ধান সাফল্যের সাথে নিষ্পত্তি করেছে। নিষ্পত্তিওকৃত এসব অনুসন্ধানের উপর ভিত্তি করে কমিশনের অনুন্ধানকারী কর্মকর্তাগণ ২৭৩টি মামলা দায়ের করেছে। অবশিষ্ট সমাপ্তকৃত অনুসন্ধানগুলোর ফলাফল কমিষনের রেকর্ডের জন্য পরিসমাপ্তির মাধ্যমে এবং অন্যান্যভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

 

২০১৭ সালের অভিযোগের অনুসন্ধান কার্যক্রমের পরিসংখ্যানঃ

২০১৭ সালের প্রারম্ভে অনিষ্পন্ন

২০১৭ সালে গৃহীত অনুসন্ধান

মোট অনুসন্ধান

২০১৭ সালে সম্পন্ন অনুসন্ধান

মামলা দায়ের

পরিসমাপ্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তি

অন্যান্যভাবে নিষ্পত্তি

২,৫২৭

১,২৩২

৩,৭৫৯

১,৪৪৫

২৭৩

১,১১৪

১৩২

 

২০১৪, ২০১৫, ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে কমিশনের মামলা দায়েরের পরিসংখ্যান:

সাল

মামলা দায়েরের সংখ্যা

২০১৪

৩৩৩

২০১৫

৫২৭

২০১৬

৩৫৯

২০১৭

২৭৩

 

Email:  dg.investigation@acc.org


Share with :

Facebook Facebook