মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২nd মে ২০১৬

অনিষ্পন্ন বিষয়াদি ও পরিদর্শন


অনিষ্পন্ন বিষয়াদি, পরিদর্শন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ অনুবিভাগ

    দুর্নীতি দমন কমিশনের ৬টি অনুবিভাগের মধ্যে  অনিষ্পন্ন বিষয়াদি, পরিদর্শন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ অনুবিভাগ অন্যতম।  ইহাতে দুইটি ইউনিট আছে- (ক) অনিষ্পন্ন বিষয়াদি ইউনিট,  (খ) পরিদর্শন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ ইউনিট।

    (ক) অনিষ্পন্ন বিষয়াদি ইউনিট :
অনিষ্পন্ন বিষয়াদি ইউনিট ২১ নভেম্বর ২০০৪ এর পূর্বের দুর্নীতি দমন ব্যুরোর আমলের অনিষ্পন্ন অভিযোগের অনুসন্ধান ও মামলার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করিয়া থাকে। দুর্নীতি দমন ব্যুরো বিলুপ্ত হয়ে কমিশন গঠিত হওয়ার পর ২০০৯ সন পর্যন্ত ব্যুরোর আমলের অনিষ্পন্ন অনুসন্ধান ও তদন্ত অকার্যকর অবস্থায় থাকে।  ইহাতে সময়মত অনুসন্ধান ও তদন্ত সম্পন্ন না হওয়ার কারণে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট গণ-কর্মচারীগণ নানারকম সমস্যার সম্মুখীন হয়।  সংশ্লিষ্ট গণ-কর্মচারীগণ তাদের পদোন্নতি, পেনশন ও চাকুরী সংক্রান্ত অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে জটিলতার সম্মুখীন হয়।  দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ৩৮(৩) ধারায় বলা আছে- “উক্ত অপঃ রহিত হইবার অব্যবহিত পূর্বে উক্ত অপঃ এর অধীনে কোন অভিযোগের অনুসন্ধান, তদন্ত, মামলা দায়েরের অনুমোদন নিষ্পত্তির অপেক্ষাধীন থাকিলে এই আইনের বিধান অনুযায়ী উক্ত অনুসন্ধান, তদন্ত এবং অনুমোদন কমিশন কর্তৃক সম্পন্ন করিতে হইবে।”
ইহাতে স্পষ্টতঃই দুর্নীতি দমন ব্যুরোর অনিষ্পন্ন অভিযোগের অনুসন্ধান, মামলার তদন্ত ও অনুমোদন প্রক্রিয়া দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী নিষ্পন্ন করার দায়িত্ব কমিশনকে দেওয়া হয়। বিষয়টি অনুধাবন করে সম্ভাব্য স্বল্প সময়ে অনিষ্পন্ন বিষয়াদি নিষ্পন্ন করার নিমিত্ত ২০০৯ সনে একজন মহাপরিচালককে প্রধান করিয়া দুর্নীতি দমন কমিশন “অনিষ্পন্ন বিষয়াদি ও পরিদর্শন অনুবিভাগ” গঠন করে।

পরিসংখ্যান :
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ৩৮(৩) ধারার মর্মানুযায়ী অনিষ্পন্ন অনুসন্ধান ও মামলা নিষ্পত্তি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ২৪/৩/২০১৬ খ্রিঃ তারিখ পর্যন্ত অনিষ্পন্ন ৯৩৬৮টি অনুসন্ধানের মধ্যে ৯২৫৭টি অনুসন্ধান নিষ্পত্তি করা হয়। নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে ১১১টি অনুসন্ধান। একইভাবে ২৭৬৬টি অনিষ্পন্ন মামলার মধ্যে তদন্ত শেষ করে ২৫৫৫টি নিষ্পত্তি করা হয়। অনিষ্পন্ন মামলার তদন্ত শেষে ১৩৩৭টি মামালায় চার্জশীট ও ১২১৮টি মামলায় চূড়ান্ত রিপোর্ট আদালতে দাখিল করা হয়। বর্তমানে ২১১টি মামলা তদন্তাধীন আছে। এই সময়ে অনিষ্পন্ন অনুসন্ধান হইতে নতুন ২১৪টি মামলা রুজু করা হয়। ইহা ছাড়াও মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগে দাখিলকৃত রীট/ফৌজদারী বিবিধ মামলায় স্থগিতাদেশের কারণে ৯১টি অনুসন্ধান, ৪২টি মামলার তদন্ত স্থগিতাবস্থায় আছে।

 

(খ) পরিদর্শন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ ইউনিট :
পরিদর্শন ইউনিট :
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ ও দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭ অনুসারে কাজের গতি, মান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণের জন্য মাননীয় চেয়ারম্যান, কমিশনার, সচিব, মহাপরিচালক ও পরিচালকবৃন্দ ২২টি সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ৬টি বিভাগীয় কার্যালয়, ৬টি অনুবিভাগ নিয়মিত পরিদর্শন করিয়া থাকেন। মাঠ পর্যায়ের পরিচালকগণ তাঁহাদের অধীনস্থ সকল ইউনিট প্রতি তিনমাসে একবার পরিদর্শন করিয়া থাকেন। প্রধান কার্যালয়ের পরিচালকগণ অধীনস্থ ইউনিটসমূহ প্রতি ৬ মাসে একবার পরিদর্শন করিয়া থাকেন। মহাপরিচালকগণ অধীনস্থ ইউনিটসমূহ প্রতি ৬ মাসে একবার পরিদর্শন করিয়া থাকেন। পরিদর্শনকৃত সকল ইউনিটকে পরিদর্শন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্রডশীট আকারে জবাব দাখিল করিতে হয়।  ইহার মাধ্যমে পরিদর্শনকারী দল অনুসন্ধান/তদন্তকারী কর্মকর্তা ও তাহাদের নিয়ন্ত্রকারী কর্মকর্তাগণের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করিয়া থাকেন। প্রত্যেক কমিশন সভায় পরিদর্শন প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণ/পর্যালোচনা করা হয়।

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ ইউনিট :
সম্প্রতি কমিশন মানিলন্ডারিং, ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত বিষয়গুলো পরিদর্শন ও মানিলন্ডারিং ইউনিটে ন্যাস্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ইতোপূর্বে এইসব বিষয়গুলির উপর বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত অনুবিভাগ হইতে কার্যক্রম গৃহীত হইত। দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয়ের স্মারক নং- দুদক/প্রশা:/ ৫২/২০১০/৬৫৯, তাং- ১০/১/২০১৬ মূলে এই অনুবিভাগের নূতনভাবে নামকরণ করা হয় “অনিষ্পন্ন বিষয়াদি, পরিদর্শন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ অনুবিভাগ”। এই উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে জনবল পদায়িত করা হইয়াছে। মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত নথিসমূহ বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত অনুবিভাগ হইতে অত্র অনুবিভাগে স্থানান্তর করা হইয়াছে।

 


Share with :
Facebook Facebook