মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৫ August ২০১৮

আজ (তারিখ: ১৫ আগস্ট, ২০১৮ খ্রি:) দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রধান কার্যালয়, ঢাকাতে 'জাতীয় শোক দিবস’’ এর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


প্রকাশন তারিখ : 2018-08-15

---------------------------------------

 

আজ দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালো রাত্রে জাতির পিতার পরিবারের যে সকল সদস্য ও আত্মীয়-স্বজন শহীদ হয়েছেন তাদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, আজ জাতীয় শোক দিবস যেমন সত্য, তেমনি আজকের দিনটি লজ্জার এবং কলঙ্কেরও দিন। কারণ আমি এমন একটি দেশের নাগরিক যে দেশের মানুষের জন্য বঙ্গবন্ধু জীবনের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন , সেই দেশেরই কতিপয় দুর্বৃত্ত তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। বঙ্গবন্ধুকে আমরা রক্ষা করতে পারিনি , তাই এই কলঙ্ক জাতি হিসেবে মোচন করা সম্ভব নয়। এমনকি এ কলঙ্ক ভবিষ্যতে হাজার বছর পরের প্রজন্মকেও বহন করতে হতে পারে।

 

তিনি বলেন, তবে এই লজ্জা বা কলঙ্ক কিঞ্চিত পরিমাণ হলেও লাঘব করতে পারি যদি আমরা বঙ্গবন্ধুর সেই অমিয় বাণী “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম ” অর্থাৎ মুক্তি তথা দারিদ্র, ক্ষুধা ও অর্থনৈতিক মুক্তির যে সংগ্রাম তিনি শুরু করেছিলেন সেই সংগ্রামে নিজেদেরকে আত্মনিয়োগ করতে পারি। তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট আত্মোপলব্ধির দিন , আজ আমাদের নিজেকে নিজেদের জিজ্ঞাসা করতে হবে গত ১৫ আগস্ট থেকে আজকের ১৫ আগস্ট অর্থাৎ গত ০১ বছরে মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি, সামাজিক বৈষম্য থেকে মুক্তি, অর্থনৈতিক বৈষম্যহীন দেশ গড়ারর জন্য আমরা কতটুকু করেছি। এই প্রশ্নের জবাবের মাধ্যমেই নিজের মূল্যায়নের উত্তর পাবেন।

 

তিনি বলেন, আমাকে আশার আলো দেখায় নতুন প্রজন্মের শিশু,কিশোর-কিশোরী,তরুণ-তরুণীর উজ্জল মুখ, যারা আমাদের ব্যর্থতা দেখিয়ে দেয়। এই প্রজন্মই সত্যিকারার্থে জাতির পিতা আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে। সত্যিই আমি এই প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের দেখে আশাবাদী। এরাই জাতির পিতার স্বপ্নের অর্থনৈতিক, সামাজিক বৈষম্য মুক্তির সংগ্রামকে আদর্শ হিসেবে লালন করে, বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণ করবে।

 

Eleven Economies এর ১১ টি দেশের একটি দেশ বাংলাদেশ, তবে বিশ্বের অর্থনীতির নেতৃত্ব দিবে এমন ১১ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে থাকতে হলে কিছু শর্ত পরিপালন করতে হবে, এই শর্তগুলোর অন্যতম শর্ত হচ্ছে শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত মানব সম্পদ এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা।

 

তিনি বলেন আজকে শপথ নেওয়ার দিন, শোককে শক্তিতে পরিণত করে দুর্নীতি নামক অশুভ শক্তির লাগাম টেনে ধরতে হবে। আমরা যে যেখানে যে অবস্থতেই থাকিনা কেন আগামী প্রজন্মের সোনলী ভবিষ্যৎ এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে একই সূতায় গেঁথে দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুঁখে দাঁড়াই।

 

তিনি বলেন আজকের এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক আমরা নিজেরা দুর্নীতিমুক্ত থাকবো। যে যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করবো সেই প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতিমুক্ত রাখবো। তবেই আজকের এই কলঙ্ক দিবস, লজ্জার দিবস, শোক দিবস স্বার্থক হবে, তা না হলে এই আলোচনসভা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে , আলোচনা করে কোনো লাভ হবে না। আলোচনার আলো সমুজ্জল রাখতে হলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে আলোচনায় যা বলি তার বাস্তব রূপ দিতে হবে।

 

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুর্নীতিই মানুষের মুক্তির প্রধান অন্তরায়। তাই আমার অনুরোধ আসুন, আমরা সবাই আইন মেনে চলবো। কেউ আমাদের আইন মানাবে সেজন্য অপেক্ষা করে থাকবো সেটা হতে পারে না। কারণ আইন না মানাই দুর্নীতি । তাই এই প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইন মেনে চলতে হবে। যে বা যারা আইন মানবেন না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন রাস্তায় যখন বেরোবেন তখন দুদকের পরিচয় ব্যবহার করবেন না, সাধারণ মানুষের মতো আচরণ করবেন, অসাধারণ হওয়ার চেষ্টা করবেন না।

 

কথা প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, আমাদের বাচ্চারারা দুদকের লোগো লাগানো একটি গাড়ি আটকিয়েছে এমন সংবাদ পাওয়া মাত্রই আমরা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছি। কাউকেই আমরা ছাড় দেইনি এবং ভবিষ্যতেও ছাড় দেব না।

 

তিনি বলেন দুর্নীতি দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা। যদি দুর্নীতি দমন বা প্রতিরোধ করা যায় তবেই শিক্ষাসহ সকল প্রকারে সরকারি সেবা মানুষ হয়রানিমুক্তভাবেই পেত। তিনি বলেন, বিআরটিএ যদি দুর্নীতিমুক্ত হতো তাহলে কীভাবে রঙচটা, হেডলাইটবিহীন গাড়ি, ফিটনেস সার্টিফিকেট পায় ? তিনি আরও বলেন, আমরা বিআরটিএ-র কার্যক্রম দেখছি, বর্তমানে কৌশলগত কারণেই হস্তক্ষেপ করছি না। তারা যদি বেআইনি কিছু করে , জনস্বার্থেই কমিশন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিষয়টি গুরুত্ব দিবে।

 

তিনি বলেন বাংলাদেশের সমস্যা দুর্নীতি এবং আইন ও বিধি-বিধান না মানা। শিক্ষা, স্বা¯থ্য কিংবা রাস্তার মূল সমস্য হচ্ছে আইন না মানা। আর এই না মানাই দুর্নীতি। তাই আসুন, আজকের এই দিনে শপথ গ্রহণ করি আমরা সবাই আইন মানবো এবং আইন না মানার এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে সচেষ্ট হবো।

 

শোকসভায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম, মহাপরিচালক মোহাম্মদ জয়নুল বারী, পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন, উপপরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী প্রমুখ।

 

আলোচনাসভা শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালো রাত্রে জাতির পিতার পরিবারের যে সকল সদস্য ও আত্মীয়-স্বজন শহীদ হয়েছেন তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করে দুদকের উপপরিচালক মোঃ রফিকুল ইসলাম ।

 


Share with :

Facebook Facebook